“বীরে গারস কূপের ইতিহাস | যে কূপের পানি দিয়ে রাসূল (সাঃ) কে শেষ গোসল করানো হয়েছিল”
বীরে গারস (بئر غرس) কূপ কোথায়? এর ইতিহাস ও ফজিলত
বীরে গারস বা “বিরে গারস” হলো মদিনা শরীফের একটি ঐতিহাসিক কূপ, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। এটি মদিনার আওয়ালী (Al-Awali) এলাকায়, Masjid Quba–এর নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। বর্তমানে এটি জিয়ারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর একটি।
বীরে গারস নামের অর্থ
“গারস” অর্থ এমন গাছ বা বস্তু যা রোপণ করা হয়। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, এই কূপের পানি ছিল অত্যন্ত মিষ্টি ও স্বচ্ছ। রাসূল ﷺ এই কূপের পানি পছন্দ করতেন এবং এখান থেকে পানি পান করতেন।
রাসূল (সাঃ) ও বীরে গারসের ঘটনা
১. রাসূল ﷺ এই কূপের পানি পান করতেন
হাদীসে এসেছে, নবী ﷺ মদিনার কয়েকটি কূপের পানি পছন্দ করতেন, তার মধ্যে বীরে গারস অন্যতম। তিনি এখান থেকে পানি পান করতেন এবং অযুও করতেন।
২. রাসূল ﷺ–এর অযুর বরকত
বর্ণিত আছে, নবী ﷺ কখনো কখনো অযুর অবশিষ্ট পানি এই কূপে ঢেলে দিতেন। সাহাবায়ে কেরাম এই কূপকে বরকতময় মনে করতেন কারণ রাসূল ﷺ এর সাথে এর সম্পর্ক ছিল।
৩. রাসূল ﷺ–এর শেষ গোসলের সাথে বীরে গারস
সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঘটনা হলো — রাসূলুল্লাহ ﷺ ওসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর ইন্তেকালের পর বীরে গারসের পানি দিয়ে তাঁকে গোসল করানো হয়।
হযরত আলী (রা.), ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীগণ রাসূল ﷺ–এর জান্নাতী দেহ মোবারক এই কূপের পানি দ্বারা গোসল করান বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। এ কারণেই এই কূপ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
সাহাবীদের সাথে এই কূপের সম্পর্ক
সাহাবায়ে কেরাম রাসূল ﷺ–এর ব্যবহৃত স্থান, কূপ ও জিনিসপত্রকে ভালোবাসতেন। বীরে গারসও তাদের কাছে ছিল সম্মানিত স্থান। বিশেষত:
- হযরত আলী (রা.)
- হযরত আব্বাস (রা.)–এর পরিবার
- আনসার সাহাবীগণ
এই কূপের পানিকে বরকতময় মনে করতেন কারণ নবী ﷺ এর সাথে এর সম্পর্ক ছিল।
কোরআন ও হাদীসের আলোকে শিক্ষা
কোরআনে সরাসরি “বীরে গারস” এর নাম উল্লেখ নেই। তবে ইসলামে পবিত্রতা, পানির গুরুত্ব এবং রাসূল ﷺ–এর ভালোবাসার নিদর্শন সংরক্ষণের শিক্ষা পাওয়া যায়।
আল্লাহ বলেন:
“আমি পানি দ্বারা সব জীবন্ত জিনিস সৃষ্টি করেছি।”
— সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৩০
হাদীসে রাসূল ﷺ–এর ব্যবহৃত স্থান ও নিদর্শনের প্রতি সাহাবীদের ভালোবাসার বহু ঘটনা পাওয়া যায়।
বর্তমানে কূপটি মদিনার জিয়ারত স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। অনেক হাজী-উমরাহ যাত্রী ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে এটি দেখতে যান। তবে ইসলামে মূল ইবাদত হলো আল্লাহর ইবাদত; কোনো স্থানকে অতিরঞ্জিতভাবে পবিত্র মনে করা বা কূপ থেকে বরকত নেওয়ার বিষয়ে শরীয়তের সীমা মানা জরুরি।
